গোডাউনপরামর্শ

অফিস পলিটিক্স: চাকরিজীবী ও চাকরিপ্রার্থীদের যা জানা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়

, September 06, 2020 WAT
Last Updated 2020-09-06T12:38:30Z
Advertisement

অফিস সহায়ক বেতন  অফিস সহায়ক প্রশ্ন  অফিস সহায়ক থেকে পদোন্নতি?  অফিস সহায়ক এর ইংরেজি শব্দ কি  অফিস সহায়ক ইংরেজি  অফিস সহায়ক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি  অফিস সহায়কের পদোন্নতি  অফিস সহকারী কি
অফিস রাজনীতি বা অফিস পলিটিক্স


অফিস পলিটিক্স এর শিকার হয়ে অনেকসময় নবীন, প্রতিভাবান ও যোগ্য কর্মীর ক্যারিয়ার ও পার্সোনাল লাইফ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি অনেক সিনিয়র কর্মী ও অফিস পলিটিক্স দ্বারা ভুক্তভোগী হয়। কিছু ক্ষেত্রে অনেক প্রতিষ্ঠান ও পলিটিক্স এর কারনে মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

অফিস পলিটিক্স কি?

অফিস পলিটিক্স হচ্ছে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিভিন্ন মানুষ একাকি অথবা বিভিন্ন গ্রুপে ভাগ হয়ে কোন স্বার্থরক্ষা, ক্ষমতার প্রয়োগ বা বিশেষ সুবিধা আদায়ের প্রচেষ্টা। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিবর্গ কর্মক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা ও মনোযোগ লাভের উদ্দেশ্যে একে অন্যের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারে লিপ্ত হয়।

অফিস পলিটিক্স এর কারন কি?

  • অফিসে কর্মরত ব্যক্তিরা যখন নিজ সামর্থের চেয়ে অতিরিক্ত অথবা অল্প পরিশ্রমে বেশি সুবিধা লাভের জন্য চেষ্টা করে তখন এই পলিটিক্স মাথা চাড়া দিয়ে ওঠে।
  • দুর্বল ম্যনেজমেন্ট ও কন্ট্রোল পাওয়ার এর অন্যতম প্রধান কারণ। কর্মক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিমাণে একে অন্যের সমালোচনা করার ফলেও প্রতিষ্ঠানে অফিস পলিটিক্স গড়ে ওঠে।
  • প্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত মাত্রার প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশও এর কারনে কর্মীদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি।
  • স্বজনপ্রীতি, হিংসা, অন্যকে প্রায়োরিটি, অন্যের কাজে অতিরিক্ত মাত্রায় নাক গলানো।
  • নিজের পজিশন-কে অতিরিক্ত প্রায়োরিটি দিয়ে অন্যদের ছোট করে দেখে তাদের পেছনে লাগাটাও এক ধরনের অফিস পলিটিক্স।
  • নিজের স্বার্থে সকলের মধ্যে একটা কমিউনিকেশন গ্যাপ তৈরি করা। 

অফিস পলিটিক্স থেকে সুরক্ষা পেতে করনীয় কি?

  • অন্যের ভুল নিয়ে আলোচনা করে নিজেকে বড় প্রমান করার চেষ্টা না করা। 
  • সততা ও স্বচ্ছতা বজায় রেখে নিজের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকা আপনাকে অফিস পলিটিক্স থেকে মুক্ত রাখতে পারে। অফিসের বড়কর্তাদের মনোযোগ আকর্ষন করতে এর কোন বিকল্প নেই। 
  • অন্যের খারাপ দেখে কিংবা সিনিয়রদের কোন সিদ্ধান্তে কিংবা কাজে অপ্রয়োজনীয় কোন প্রতিক্রিয়া দেখালে বড় সমস্যা তৈরী হয়। আপনার চোখে কাজটি ভুল হলেও প্রতিক্রিয়া দেখাতে যতটা সম্ভব নিজেকে সংযত রাখার চেষ্টা করুন। কিংবা যদি বলাটা জরুরী মনে করেন, তাহলে কর্পোরেট কার্লচার মেনেই ভদ্রতার সাথে বিষয়টি নজরে আনতে পারেন, কিন্তু তর্ক করা যাবেনা।
  • কারোর ব্যক্তিগত সমস্যায় ইনভলভ হওয়া,  কমেন্ট করা বা এ নিয়ে ঘাটাঘাটি করা উচিৎ নয়। তাতে অফিস পলিটিক্স অনেকটুকু এড়াতে পারবেন।
  • অফিসের অন্যের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানোর বদ অভ্যাস যাদের রয়েছে তাদের সংগ যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলার চেস্টা করুন।
  • অফিসে নিজের মেজাজ নিয়ন্ত্রণ না করতে পারলে আপনার বিরুদ্ধে পলিটিক্স গ্রপ তৈরি হয়ে যাবে। তাই সব সময় নিজের মেজাজকে নিয়ন্ত্রনে রাখবেন। বস কিংবা কলিগ কিংবা অধীনস্থ কর্মচারী কারও বিরুদ্ধেই মেজাজ গরম আচরণ করা থেকে বিরত থাকুন।
  • যে অফিসে চাকুরি করছেন, সেই জায়গাতে নিজের ব্যক্তিগত লক্ষ্য নির্ধারণ করুন এবং সেই লক্ষ্য পূরণে নিজের সর্বোচ্চ মনোযোগ দিন ও একাগ্রতা দেওয়ার চেষ্টা করুন।

অফিস পলিটিক্স নিয়ে আরো অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয় থাকতে পারে যেগুলো এখানে আলোচনা অশোভন। তাই সেগুলো জব করতে করতে এমনিই আয়ত্বে এসে যাবে।

লিখেছেন - আরিফ কাজী, তওই ০৭ (পরিমার্জিত)