আজ বিখ্যাত বিজ্ঞানী ও দার্শনিক ব্লেইজ প্যাসকেলের জন্মদিন। তাই তার জীবনী নিচে আলোচনা করা হল।
ব্লেইজ প্যাসকেলঃ-
ক্যালকুলেটরের আবিষ্কার স্যার ব্লেইজ প্যাসকেল (জুন ১৯, ১৬২৩-আগষ্ট ১৬৬২) ছিলেন একজন ফরাসি গণিতজ্ঞ, পদার্থবিদ, উদ্ভাবক, লেখক এবং দার্শনিক। তিনি একজন বিস্ময় বালক ছিলেন যিনি তার কর সংগ্রাহক বাবার মাধ্যমে শিক্ষিত হয়েছিলেন। প্যাসকেলের শুরুর দিকের কাজ ছিল প্রকৃতি ও ব্যবহারিক বিজ্ঞানের উপর যেখানে প্রবাহী পদার্থের সম্পর্কিত তার বিশেষ গুরুত্বপূর্ন অবদান ছিল। তিনি প্রথম চাপ এবং শূন্য অবস্থা ধারনা স্পষ্ট করেন।
সংক্ষিপ্ত জীবনী ও আবিষ্কারঃ-
১৬৪২ সালে কিশোর থাকা অবস্থায় তিনি গণনাকারী যন্ত্র উদ্ভাবনে অগ্রনী ভুমিকা পালন করেন। তিন বছর প্রচেষ্টা এবং ৫০টি মডেল তৈরির পর তিনি যান্ত্রিক গণনাকারী আবিষ্কার করেন। পরের দশ বছরে তিনি এমন বিশটি যন্ত্র উদ্ভাবন করেন।তিনি সারা বিশ্বের প্রথম শ্রেনীর গণিতবিদদের মধ্যে একজন ছিলেন। গবেষণার দুটি প্রধান বিষয় উদ্ভাবনে তিনি বিশেষ অবদান রাখেন। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি অভিক্ষেপ জ্যামিতির উপর একটি তাৎপর্যপূর্ন নিবন্ধ লিখেন, পরে তা সম্ভব্যতার তত্ত্বের সাথে সুসঙ্গত হয় যা আধুনিক অর্থনীতি এবং সমাজ বিজ্ঞানকে মারাত্মক প্রভাবিত করেছে।


১৬৪৬ সালে ব্লেইজ প্যাসকেল এবং তাঁর বোন জ্যাকুইলিন ক্যাথলিক ধর্মীয় আন্দোলনের মাধ্যমে সনাক্ত হয়েছিলেন Jansenism নামক এক অপবাদের কারনে। ১৬৫১ সালে তার পিতা মারা যান। ১৬৫৪ সালের শেষের দিকে তিনি রহস্যময় কিছু অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। তাঁর বৈজ্ঞানিক কর্মযজ্ঞ বন্ধ করে শুরু করেন জীবনের দ্বিতীয় অধ্যায়, নিজেকে নিয়োজিত করেন দর্শন ও ধর্মতত্ত্বে। এই সময় তিনি পাটিগণিতিক ত্রিভুজের উপর একটি গুরুত্বপূর্ন নিবন্ধন লেখেন। ১৬৫৮ ও ১৬৫৯ সালের মধ্য তিনি বৃত্ত নিয়ে লেখেন এবং বিভিন্ন কঠিন বস্তুর আয়তন নির্ণয়ে তার প্রয়োগ আলোচনা করেন।
প্যাসকেলের স্বাস্থ্য খুবই ভগ্ন ছিল এবং তাঁর ৩৯তম জন্মদিনের পরের মাসেই তিনি মৃত্যুবরন করেন।


আবিষ্কার সমূহঃ-
১.ক্যালকুলেটার
২.প্যাসকেলের ওয়াজার ৩.প্যাসকেলের ত্রিভুজ
৪. পাসকালের তত্ত্ব
৫. প্যাসকেলের সূত্র
প্যাসকেলের সূত্রঃ- আবদ্ধ পাত্রে তরল বা বায়বীয় পদার্থের কোনো অংশের উপর বাইরে থেকে চাপ প্রয়োগ করলে সেই চাপ কিছু মাত্র না কমে তরল বা বায়বীয় পদার্থের সবদিকে সমানভাবে সঞ্চালিত হয় এবং তরল বা বায়বীয় পদার্থের সংলগ্ন পাত্রের গায়ে লম্বভাবে ক্রিয়া করে।
প্যাসকেলের সূত্রের গাণিতিক ব্যাখ্যা : বলবৃদ্ধিকরণ নীতি

আবদ্ধ তরল পদার্থের ক্ষুদ্রতম অংশের উপর পিস্টন দ্বারা কোনো বল প্রয়োগ করলে এর বৃহত্তম পিস্টন সেই বলের বহুগুন বেশি বল প্রযুক্ত হতে পারে। একে বল বৃদ্ধিকরণ নীতি বলে।
বড় পিস্টনের ক্ষেত্রফল যত বেশি হবে বলও তত বেশি অনুভুত হবে।
পূর্ববর্তী আর্টিকেল পরবর্তী আর্টিকেল