চিকিৎসাবিজ্ঞানবিষয়ভিত্তিক

রোজা পালনের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব

, May 06, 2019 WAT
Last Updated 2020-07-27T00:50:11Z
Advertisement

রোজার ধর্মীয় গুরুত্ব উপলব্ধি করার পরও শরীর খারাপ করবে বা রোজা রাখার শারীরিক সামর্থ্য নেই। এই অজুহাতে অনেকে রোজা রাখেন না।  কিন্তু রোজার ফজিলতের বিষয়ে কোরআন-হাদিসে অনেক ব্যাখ্যা রয়েছে। শারীরিক উপকারিতা বিষয়ে ব্যাখ্যা রয়েছে বিশ্বখ্যাত চিকিৎসকদের। এখানে কয়েকটি বিশ্লেষণ করা হলো।  
১. আপনি সহজে বুড়ো হবেন না : আমেরিকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব এজিংয়ের নিউরো সায়েন্স ল্যাবরেটরির প্রধান ড. মার্ক পি ম্যাটসন ও তার সহকর্মীরা দেখান যে, নিয়মিত ডায়েটিং করলে একজন মানুষের দেহে যে প্রভাবগুলো পড়ে,  রোজা বা উপবাসও সেই একই প্রভাব ফেলে। ইঁদুরের ওপর এবং পরে মানুষের ওপর ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা একদিন পরপর উপবাসের প্রভাব নিয়ে গবেষণাটি তারা পরিচালনা করেন। তারা বলেন, উপবাসের ফলে দেহে এমন কিছু প্রোটিন উৎসারিত হয় যেটা মস্তিষ্কের কোষগুলোকে অক্সিডেশনজনিত ক্ষতি থেকে রক্ষা করে এবং স্নায়ুকোষের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে বয়সজনিত রোগ যেমন, অ্যালঝেইমার, হান্টিংটন বা পার্কিনসন্সের ঝুঁকি অনেকখানি কমে যায়। গবেষণায় তারা দেখেন, কয়েক ঘণ্টা পরপর নিয়মিত খাদ্য গ্রহণ রক্তে শর্করার মান সবসময় উঁচু রাখে। শক্তি উৎপাদনের জন্য এই শর্করাকে বিপাক হতে হয়। এই বিপাকের একটি উপজাত হলো জারণ। এই জারণের ফলে দেহে সৃষ্টি হয় অস্থিতিশীল অক্সিজেন অণু, যার সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক পরিণতি হলো বুড়িয়ে যাওয়াকে ত্বরান্বিত করা। কিন্তু রোজা বা উপবাস এ প্রক্রিয়াকেই পাল্টে দেয়। অনাহারের ফলে দেহে যে সাময়িক শক্তি সংকট হয় তা মস্তিষ্কের কোষগুলোকে প্রোটিন উৎপাদনে উৎসাহ দেয়, এমনকি নতুন ব্রেন সেলও জন্মায়।
২. ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমবে : রোজা রাখলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। ম্যাটসনের ব্যাখ্যায় বলেন, নিয়মিত খাওয়া-দাওয়া মানে দেহকোষগুলোতে ইনসুলিনের স্থিতিশীল সরবরাহ। এই তৃপ্ত এবং অলস কোষগুলো তখন হয়ে যায় ইনসুলিন-রেজিস্ট্যান্ট। আর ডায়াবেটিসের লক্ষণ এটাই। কিন্তু মাঝে মাঝে খাওয়া-দাওয়া বাদ দিলে এ কোষগুলো আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে এবং বিপাক করতে পারে দক্ষভাবে। ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমার সঙ্গে সঙ্গে উচ্চরক্তচাপ এবং হার্ট-এটাকের আশংকাও কমে।
৩. ওজন কমাতে পারবেন সহজে : ওজন কমাতে চাইলেও রোজা বা উপবাস আপনার জন্যে খুব কার্যকরী। ড. এরিক রভুসিনের গবেষণা থেকে দেখা গেছে ওজন কমাতে গিয়ে প্রতিদিন কঠোরভাবে খাবার নিয়ন্ত্রণের চেয়ে একদিন স্বাভাবিক খাওয়া-দাওয়া এবং তার পরদিন কিছুই না খাওয়া –এরকম ‘সবিরাম উপবাস’ অনেক ভালো ফল দিতে পারে। তিনি বলেন, ওজন নিয়ন্ত্রণের জন্যে দিনের পর দিন না খেয়ে থাকার চেয়ে সবিরাম উপবাস একটি ভালো বিকল্প।
৪. স্ট্রেস কমায় : যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস এর গবেষণায় দেখা গেছে উপবাস স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে, সুস্থতার অনুভূতিকে বাড়ায় এবং দীর্ঘজীবন এনে দেয়।
৫. কোলেস্টেরল কমায় : সংযুক্ত আরব আমিরাতের কয়েকজন কার্ডিওলজিস্ট একদল স্বেচ্ছাসেবীর ওপর একটি গবেষণা চালান। ৩০ দিন রোজা রাখার পর দেখা গেল দেহের ওজন বা সুস্থতাবোধের ওপর কোনো প্রভাব না পড়লেও তাদের রক্তের লিপিড প্রোফাইলের ওপর চমৎকার প্রভাব পড়েছে। অর্থাৎ তাদের রক্তে এলডিএল বা ক্ষতিকারক কোলেস্টেরল কমেছে। শুধু মুসলমানরাই নন, অর্থডক্স খ্রীষ্টানদের ধর্মীয় উপবাসকালীন সময়ে একই প্রভাব দেখা গেছে তাদের দেহে।
৬. রক্তচাপ কমায় : গবেষণায় আরো দেখা গেছে রোজা বা উপবাস ব্যায়ামের চেয়েও কার্যকরভাবে হার্টবিট ও ব্লাড প্রেশার কমাতে পারে।
৭. ক্যান্সার ঝুঁকি কমায় : ক্যান্সারের ক্ষেত্রে উপবাসের কোনো প্রভাব আছে কি না তা নিয়ে মানুষের ওপর এখনো কোনো গবেষণা না হলেও প্রাণিদের ওপর এরইমধ্যে এ গবেষণা পরিচালিত হয়েছে এবং তাতে দেখা গেছে উপবাসের ফলে তাদের লিম্ফোমার ঝুঁকি কমেছে, টিউমার অপসারণ পরবর্তী বেঁচে থাকার হার বেড়েছে এবং ক্যান্সারাস কিছু কিছু সেলের ফের বৃদ্ধিকে ঠেকায়।