![]() |
| Surinam Toad |
Surinam Toad, যার বৈজ্ঞানিক নাম Pipa pipa, দক্ষিণ আমেরিকার অন্যতম অদ্ভুত ও বিরল ব্যাঙ প্রজাতি। এর অস্বাভাবিক গঠন ও অনন্য প্রজনন পদ্ধতি একে অন্য সব ব্যাঙের থেকে আলাদা করে তোলে।
বিশেষ বৈশিষ্ট্য
- এই ব্যাঙের সবচেয়ে চমকপ্রদ দিক হলো এর প্রজনন প্রক্রিয়া।
- স্ত্রী ব্যাঙের পিঠের ত্বকের ওপর ডিম স্থাপন করা হয়
- মিলনের সময় পুরুষ ব্যাঙ ডিমগুলোকে চাপ দিয়ে মায়ের পিঠে বসিয়ে দেয়
- ডিমগুলো ধীরে ধীরে ত্বকের ভেতরে ঢুকে ছোট ছোট কোষের মতো জায়গায় অবস্থান নেয়
- সেখানেই ডিম ফুটে সরাসরি ছোট ব্যাঙ বের হয়—মাঝে ব্যাঙাচি ধাপ থাকে না
এই কারণে একে অনেক সময় “brooding toad” নামেও ডাকা হয়।
বাসস্থান
Surinam Toad মূলত দক্ষিণ আমেরিকার উষ্ণ ও আর্দ্র অঞ্চলে পাওয়া যায়, যেমন:
- অ্যামাজন নদীর অববাহিকা
- সুরিনাম
- গায়ানা
- ব্রাজিলের বিভিন্ন জলাভূমি ও জঙ্গল
এরা সাধারণত ধীরগতির পানি, পুকুর ও কাদামাটিযুক্ত পরিবেশে বাস করতে পছন্দ করে।
খাদ্যাভ্যাস
এই ব্যাঙ মাংসাশী প্রকৃতির এবং সাধারণত খায়:
- ছোট মাছ
- জলজ পোকামাকড়
- ক্ষুদ্র জলজ প্রাণী
পানির ভেতরেই এরা শিকার করে এবং দ্রুত খাবার গিলে ফেলে।
জীবনচক্র ধাপে ধাপে
Surinam Toad-এর জীবনচক্র সত্যিই ব্যতিক্রমধর্মী। নিচে সহজভাবে ধাপগুলো দেওয়া হলো:
1. ডিম পাড়া
স্ত্রী ব্যাঙ পানিতে ডিম পাড়ে এবং পুরুষ ব্যাঙ তা নিষিক্ত করে।
2. পিঠে ডিম বসানো
মিলনের সময় পুরুষ ব্যাঙ ডিমগুলোকে মায়ের পিঠের নরম ত্বকের মধ্যে চেপে বসিয়ে দেয়।
3. ত্বকের ভেতর বিকাশ
ডিমগুলো ত্বকের ভেতরে ছোট ছোট গহ্বরে ঢুকে যায়, যেখানে ভ্রূণ নিরাপদে বৃদ্ধি পায়।
4. ব্যাঙাচি ধাপ অনুপস্থিত
অন্য ব্যাঙের মতো আলাদা ব্যাঙাচি (tadpole) ধাপ এখানে দেখা যায় না।
5. ছোট ব্যাঙের জন্ম
কয়েক সপ্তাহ পর, মায়ের পিঠ থেকে সম্পূর্ণ গঠিত ছোট ব্যাঙ বের হয়ে আসে।
কেন এটি এত বিশেষ?
Surinam Toad-এর প্রজনন পদ্ধতি পৃথিবীর অন্যান্য ব্যাঙের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন। মায়ের শরীরের ভেতরে সন্তানের বিকাশ এবং সরাসরি ছোট ব্যাঙ হিসেবে জন্ম নেওয়া—এই বৈশিষ্ট্য একে প্রকৃতির সবচেয়ে অদ্ভুত ও আকর্ষণীয় প্রাণীদের মধ্যে স্থান দিয়েছে।



