মহাকাশ

বাংলাদেশী মহাকাশচারী ও নাসায় বাংলাদেশী বিজ্ঞানী

, April 10, 2020 WAT
Last Updated 2020-04-10T13:59:43Z
Advertisement

ছবির মতন আমরা অনেকেই নিজেদের কে নাসায় কল্পনা করার স্বপ্ন দেখি। একবার ভাবুন তো আপনি মহাকাশচারী হয়ে পৃথিবী পৃষ্ট থেকে বেরিয়ে তুলোর মতন বিশাল সৌরজগতে ভেসে বেড়াচ্ছেন! কি রোমাঞ্চকর তাইনা? যেন স্বপ্নের মতন। তবে আমাদের অনেকেরই ধারণা আমাদের দেশে বিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন স্নাতক থাকলেও মহাকাশ, স্পেস স্টেশন, সৌরজগত ইত্যাদি নিয়ে তেমন পড়ালেখা ও গবেষণার ব্যবস্থা নেই বলে বাংলাদেশে পড়ে কিংবা বাংলাদেশী হয়ে নাসার স্বপ্ন দেখা হয়ত প্রায় অসম্ভব।

কিংবা মনে করি বাংলাদেশি কেও নাসায় কাজ করলেও হয় সে বাংলাদেশী বংশভুত বিদেশী নাগরিক এবং ছোট বেলা থেকে ওখানে পড়ালেখা করেছেন, আর না হলে এমন কেউ যার পরিবারের বেশীরভাগ মানুষ বিজ্ঞান নিয়ে পড়েছে, তাই অমন পরিবেশে বড় হওয়ায় সম্ভব হয়েছে।

কিন্তু আমাদের এরকম ধারণা কিন্ত পুরোপুরি ঠিক নয়। বরং বাংলাদেশী বেশ কিছু সাধারণ সফল বিজ্ঞানী আছেন যারা নাসায় রয়েছেন। যারা বাংলাদেশ থেকে পড়ে/স্নাতক পাস করে পরবর্তীতে বিদেশে গবেষণা করেছেন এবং নাসায় কাজ করেছেন। এদের ভেতর কেউ কেউ ছিলেন একদম সাধারণ বাঙালী। আবার এমন একজন বাংলাদেশী নারী মহাকাশচারী বিজ্ঞানী আছেন যিনি পৃথিবীর সেরা এবং ভাগ্যবান মহাকাশচারী যারা ২০২৫ সালে "Mars" গ্রহে যাবার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন তাদের ভেতর একজন। বরং "ইশ, আমি যদি নাসায় বিজ্ঞান নিয়ে কাজ করতে পারতাম।" কিংবা "বাংলাদেশে পড়লে বিদেশে গবেষণা করে নাসায় যাওয়া যাবেনা" এটা স্রেফ একটি ট্যাবু অথবা অজুহাত। তাই "কারোর বিজ্ঞান নিয়ে প্রবল আগ্রহ থাকলে পৃথিবীর যে কোন যায়গা থেকে নাসায় আসা সম্ভব," শুধু এই আত্নবিশ্বাস টুকুই ধরে রাখে চেষ্টা করে যেতে হবে।

নিচে বাংলাদেশী বেশ কয়েকজন মহাকাশচারী, নাসার বাংলাদেশী বিজ্ঞানী সহ বেশ কয়েকজন বাংলাদেশী বিজ্ঞানীদের নাম এবং অবদান তথ্যসূত্র সহ দেওয়া হলো। উক্ত সকল তথ্য ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করে আমার ভাষায় লিখেছি ।


আব্দুস সাত্তার খান ( জন্ম-মৃত্যু ১৯৪১-২০০৮) ক্যামিস্ট্রি নিয়ে পিএইচডি করা নাসার একজন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী। নাসাসহ একাধারে কাজ করেছেন Alstom, United Technologies এর সাথে।


মাত্র ৩৫ বছর বয়সী বাংলাদেশী মহাকাশচারী লুলু ফেরদৌস, পৃথিবী থেকে ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতন "Mars" গ্রহে যাওয়ার জন্য নির্বাচিত সেরা ৪ জন সৌভাগ্যবান মানব-মানবীর ভেতর এই বাংলাদেশী নারী মহাকাশচারী বিজ্ঞানী একজন। বাংলাদেশী এই বিজ্ঞানীর বাবা আহিদুর রহমান খান এবং মা রাজিয়া সুলতানা ঢাকার মোহাম্মদপুর এরিয়ায় থাকেন এবং তিনি বর্তমানে গবেষণার কাজে USA থাকেন। তার ভাষ্য মতে, তার বাবা-মা এই মুহুর্থে পৃথিবী থেকে "Mars" গ্রহে যাবার মতো দুঃসাহসিক অভিযানে যাওয়ার পক্ষে এখন রাজি না হলেও একসময় তারা গর্ব করবেন পৃথিবী ও বিজ্ঞানে নিজেদের মেয়ের অবদানের কথা ভেবে।


২০১৭ সালে নাসার রিসার্চ ইঞ্জিনিয়ার বাংলাদেশী মাহমুদা সুলতানা নাসা থেকে "Goddard Innovator of the Year" অ্যাওয়ার্ড এচিভ করেন। নাসা তার সম্পর্কে বলে: “She embodies the very essence of innovation,”


বুয়েট থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এ ১৯৮২-তে পাস করা নিজের উদ্যোগ আর প্রবল ইচ্ছে শক্তি তে সফল হওয়া নাসার বাংলাদেশী বিজ্ঞানী আতিকুজ জামান। এখন পর্যন্ত নাসার সাথে কাজ করেছেন "ইন্টারনেটে মহাশূণ্য যানের সঙ্গে কিভাবে কমুনিকেট করা, অর্থাৎ ইন্টারনেট কমুনিকেশন। এছাড়াও কাজ করেছেন নাসার অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট নিয়ে।


বিশ্বের সর্বাপেক্ষা প্রভাবশালী বৈজ্ঞানিক মেধা খেতাবধারীর তালিকায় ড. সাইদুর রহমান নামের বাংলাদেশি এক তরুণ বিজ্ঞানীর নাম উঠে এসেছে। তিনি বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিখ্যাত মালয় বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকৌশল বিভাগের সিনিয়র অধ্যাপকের দায়িত্ব পালন করছেন। নিউইয়র্কভিত্তিক বিজনেস ইনফরমেশন ফার্ম থমাস রয়টার্স কর্পোরেশন এ তালিকা প্রকাশ করেছে।


তাই বিজ্ঞান নিয়ে প্রবল আগ্রহ, দক্ষতা আর ইচ্ছে থাকলে আত্নবিশ্বাস প্রখর করে চেষ্টা করে যান, হয়তোবা নাসার পরবর্তি বাংলাদেশী সফল বিজ্ঞানী আপনিই হবেন। উপরে উল্লেখিত মানুষগুলো হয়তো একজনই হয় ওরকম, ব্যাপার না আপনার ওনাদের মতো হতে হবে না। বরং আপনিও এরকম একজন হয়ে দেখিয়ে দিন।

লেখকঃ জাবের আমিন।