গ্রহাণুর বুক থেকে নমুনা সংগ্রহ করল জাপানি মহাকাশযান - হায়াবুসা-২

হায়াবুসা-২

মাহকাশ গবেষণায় দূরদর্শিতার ও সাহসের পরিচয় দিয়েই যাচ্ছে জাপানিরা। কয়েকদিন আগেই জাপানি মাহাকাশযান হায়াবুসা-২ গ্রহাণু রিউগুতে আঘাত করেছিল। আর এবার গ্রহাণুর বুক থেকে নমুনা সংগ্রহ করল মাহাকাশযানটি। সম্প্রতি তার একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে জাপানের মহাকাশ সংস্থা
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে বলা হয়, গত ১১ জুলাই জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১০টা নাগাদ রিউগুর কাছাকাছি পৌঁছে যায় হায়াবুসা-২। যান্ত্রিক হাতের মতো অংশ ব্যবহার করে রিউগুয়ের মাটি থেকে পাথরের টুকরা তুলে নেয় জাপানি মহাকাশযান। ২৬ জুলাই এই প্রক্রিয়ার একটি ভিডিও প্রকাশিত হয়। হায়াবুসা-২-এ লাগানো ক্যামেরায় ওঠে সেই ভিডিও। ভিডিওটির গতি ১০ গুণ বাড়িয়ে প্রকাশ করা হয়েছে।
চলতি বছরের এপ্রিলে রিউগুয়ের মাটিতে আঘাত করেছিল হায়াবুসা-২। সেই সময়ে গ্রহাণুটির বুকে প্রায় ১০ মিটার চওড়া একটি বড় গর্ত তৈরি করা হয়। তার পর সেই অংশ থেকে সংগ্রহ করা হয় পাথরের নমুনা। তার ছবিও প্রকাশ করে জাপানি মহাকাশ সংস্থা।
আগের তুলনায় এবারের প্রক্রিয়াটি ছিলো আরো জটিল। এবার সেই গর্তের অংশ থেকেই পাথরের নমুনা সংগ্রহ করতে প্রস্তুত হন বিজ্ঞানীরা। জাপানি মহাকাশ সংস্থার ওয়েবসাইটে বলা হয়, সঠিক স্থানে পৌঁছনো সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে চিন্তিত ছিলেন বিজ্ঞানীরা। প্রক্রিয়াটিতে যথেষ্ট ঝুঁকি ছিলো।
গ্রহাণু রিউগু মহাবিশ্বের সব থেকে পুরনো জ্যোতিষ্কগুলোর মধ্যে অন্যতম। প্রায় এক কিলোমিটার ব্যাসের রিউগু গ্রহাণু। স্ফটিক আকৃতি গ্রহাণুটি তৈরি পাথরখণ্ড ও ধুলা দিয়ে। সেখানেই ব্রহ্মাণ্ডের সৃষ্টি রহস্য জানতে যান পাঠিয়েছে জাপানিরা। হায়াবুসা-২ নামের এই মহাকাশ যানে রয়েছে একটি ছোট্ট বোমা। যাতে ভরা রয়েছে টিএনটির মতো বিস্ফোরক। মূল যান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে সেই বিস্ফোরকটি পড়ে গ্রহাণুর বুকে। ঠিক তখনই মূল যান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আরেকটি ক্যামেরা ঘটনার ছবি তোলে। বিস্ফোরণের অভিঘাত থেকে বাঁচতে বিস্ফোরণের সময় হায়াবুসা-২-কে গ্রহাণুর বিপরীত দিকে পাঠিয়ে দেন বিজ্ঞানীরা।
রিউগুর কক্ষপথ কক্ষের সঙ্গে পৃথিবীর কক্ষর মিল রয়েছে। তাই একে নিয়ার আর্থ অ্যাস্টরয়েডের শ্রেণিতে রেখেছেন বিজ্ঞানীরা। সাড়ে আটশ মিটার ব্যাসের গ্রহাণুটি প্রতি চারশ ৭৪ দিনে একবার সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে। পৃথিবী থেকে প্রায় ৯৫ হাজার চারশ কিমি দূরে অবস্থান এই গ্রহাণুর।
জাপানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ডিসেম্বর মাসে উৎক্ষেপণ হয় হায়াবুসা-২। গত বছর জুনে গ্রহাণুটির কাছে পৌঁছায় হায়াবুসা-২। তার পর থেকে সেটির পৃষ্ঠে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়। ২০১৯ সালের শেষে, নভেম্বর বা ডিসেম্বর মাসে পৃথিবীর দিকে ফিরতে শুরু করবে হায়াবুসা-২। ২০২০ সালের শেষে পৃথিবীর মাটিতে ফেরার কথা জাপানি মহাকাশযানের।
সূত্র: জিনিউজ।

—নাজমুল হাসান।