পদার্থবিজ্ঞানপদার্থবিদবিষয়ভিত্তিক

মৃত স্ত্রী'র উদ্দেশ্যে রিচার্ড ফাইনম্যানের চিঠি

, May 12, 2019 WAT
Last Updated 2020-07-27T00:51:10Z
Advertisement
প্রিয় ,
আমি তোমাকে খুব পছন্দ করি হৃদয়েশ্বরী ।
আমি জানি ,তুমি কতটা পছন্দ করো এটা শুনতে- কিন্তু কেবলমাত্র তুমি পছন্দ কর বলে বিধায় আমি লিখছি না-কারন এটি তোমাকে লেখার জন্য আমার ভিতরে সর্বদা অন্যরকম এক উত্তেজক অনুভুতির সঞ্চার করে !
তোমাকে শেষবার লেখার পরে থেকে খুবই বাজে সময় পার করছি । এক বছর হয়ে গেলো, আমি জানি তুমি আমাকে মাফ করবে, কারন তুমি জানো আমি কেমন আছি। কঠিন ও বাস্তববাদী ! আর আমি ভেবেছিলাম লেখার জন্য আমার অনভুতিগুলি ছিল শূন্য ।
প্রিয়তমা , এখন আমি জানি এখনই সঠিক সময়, যা করতে আমি অনেকটায় দেরি করে ফেলেছি, এমন তো আগে আমি আগেও করেছি , তাই না ! আমি তোমাকে বলতে চাই , আমি তোমাকে ভালবাসি, জান । আমি তোমাকে ভালবাসতে চাই , আমি জীবনের শেষ পর্যন্ত তোমাকে ভালবাসব ।
তুমি যাওয়ার পরে আমার বুঝতে অনেকটায় কষ্ট হয়েছে এই অর্থ খুজতে যে, " তোমাকে ভালোবাসার অর্থ কি ?" - আমি এখনো তোমার সাথে স্বাচ্ছন্দ্যে থাকতে চাই এবং তোমার জন্য ভাবতে চাই - আর আমি এইও চাই যে তুমিও আমার জন্য ভাববে । আমি আমার সকল সমস্যা তোমার সাথে আলোচনা করব- আমি তোমার সাথে আমার সকল চিন্তাগুলো আলোচনা করব । আমি এই মুহূর্ত ছাড়া কখনো ভাবি নি যে আমরা তা করতে পারব । আমাদের কি করা উচিৎ ? আমরা একসাথে স্বপ্ন বুনতে শিখেছি- শিখেছি ঝগড়া করে নিজেকে সেরা প্রমাণ করতে - আর আমি মহামানব থেকে হয়ে গেছি সাধারণ । এখন আমি কি কিছু করতে পারি না ? না , পারি না । তুমি আমাকে ফেলে গেছো । আমাদের সকল বন্য ও অপ্রত্যাশিত অভিযানের তুমি ছিলে বুদ্ধিদাতা আর একই সাথে শয়তানি কাজের প্ররোচক !
তুমি অসুস্থ ছিলে , তুমি মনমরা ছিলে কারন তুমি আমাকে সময় দিতে পারছিলে না, আমার যা যা দরকার আর আমার জন্য যা যা করতে চেয়েছিলে। তোমার দুশ্চিন্তা করার দরকার ছিল না ! আর আমি তোমাকে কেন দরকার ছিল না তার ব্যাখ্যাও দিয়েছিলাম , আমি তোমাকে ভালবাসি, সর্বদা , সবসময় আর সকল কাজের মধ্যেও । আর এটি এখন আরও চরমতম সত্য । তুমি এখন আমার সাথে নেই ঠিকই - তুমি আমাকে কিছু দিতে পারছ না ঠিকই, কিন্তু আমি যে অন্য কাউকে ভালবাসব সেই সুযোগ নেই , কেননা , তুমি সেই পথ আঁটকে আছ । কিন্তু আমি সেই পথে কেবল তোমার সাথে থাকতে চাই । তুমি নেই ঠিকই , কিন্তু অন্য যেকোনো কারো চাইতে আরও বেশি প্রাণবন্ত ।
আমি জানি তুমি এখন এই বলে আমাকে সান্ত্বনা দিবে যে , আমি বোকার মত কথা বলছি , তুমি কেবল আমাকে হাসিখুশিতে দেখতে চাও আর তুমি কখনো আমার কোন কিছুতে বাধা হবে না ! আর তখন আমি তোমার সাথে তখন বাজি ধরে বলব যে , না তুমি চলে যাওয়ার এক বছর পরেও আমার কোন মেয়েবন্ধু নেই , কেবল তুমি ছাড়া , আমার প্রিয়তমা ! কিন্তু তুমি কিছু করতে পারবে না , জানি আমিও পারব না - তুমি চলে যাওয়ার পরে তোমাকে ভোলার জন্য অনেক মেয়ের সাথে কথা বলেছি প্রিয়তমা , অনেক আকর্ষণীয় আর সুন্দর মেয়ে ছিল আর আমিও একা থাকতে পারছিলাম না - কিন্তু দুই-তিনদিন কথা বলার পরে সব ছাইয়ের মত উড়ে যায় ! শুধু তুমি আমার সাথে আছো , তুমি জীবন্ত , প্রানবন্ত আর সত্য ।
আমার প্রিয়তমা , আমি তোমাকে খুব পছন্দ করি !
আমি আমার প্রিয়াকে খুব ভালবাসি , অথচ সে আমার সাথে নেই ।
দ্রষ্টব্য: আমাকে ক্ষমা কর এই চিঠিটি তোমাকে না পাঠানোর জন্য- আমি তোমার নতুন ঠিকানা জানি না !
Love of my life, you've hurt me,
You've broken my heart and now you leave me.
Love of my life can't you see,
Bring it back, bring it back,
Don't take it away from me because you don't know what it means to me.
( Richard Fynman এর তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে লেখা চিঠির সম্পাদিত অণুলিখন)
নোবেল বিজয়ী মার্কিন পদার্থবিজ্ঞানী ও বিংশ শতকের অন্যতম বুদ্ধিদীপ্ত রিচার্ড ফাইনম্যান কেবল তার প্রেমিকার সাথে থাকার জন্য প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের বৃত্তি উপেক্ষা করেছিলেন । কারন তৎকালীন প্রিন্সটনে বৃত্তির শর্ত ছিল , অবিবাহিত হতে হবে ! কিন্তু ঠিক তখনই তার প্রেমিকা আরলিন গ্রিনবামের টিউবারকোলেসিস ধরা পরে , যা তখন আরোগ্য করা যেত না ! শেষে প্রেমিকার অনুরোধে প্রিন্সটন থেকে পিএইচডি অর্জন করার পরে ১৯৪২ সালের জুনের ২৯ তারিখে আরলিনকে বিয়ে করেন ঠিকই । কিন্তু তাকে শুধুমাত্র চুম্বনই করতে পেরেছিলেন , এরপরে তাকে দেবোরাহ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল । পরবর্তী দুই বছর যেখানে রিচার্ড মাত্র সপ্তাহে একবার আরলিনকে দেখার অনুমতি পেয়েছিলেন ।
এরপরে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে রিচার্ড ফাইনম্যানকে গোপনীয় ও কঠোর ম্যানহ্যাটন প্রকল্পে ডাকা হয় । প্রিন্সটনে থাকাকালীন সময়ে পদার্থবিজ্ঞানী রবার্ট আর. উইলসন ফাইনম্যানকে ম্যানহাটন প্রকল্পে যোগদানের আমন্ত্রণ জানান— যা ছিল লস আলামসে যুদ্ধকালীন সময়ে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পারমাণবিক বোমা তৈরির প্রকল্প। জার্মানিতে অ্যাটম বোমা তৈরির পূর্বেই কাজটি সম্পন্ন করার গুরূত্ব অনুধাবন করে ফাইনম্যান এর সাথে যুক্ত হন। সেখানে তিনি পারমাণবিক বোমা নিয়ে কাজ করেন । কিন্তু জুনের ১৬ তারিখ ১৯৪৫ সালে আরলিন তাকে ছেঁড়ে পরপারে চলে যায় । রাষ্ট্রীয় গোপন কাজ হওয়ায় রিচার্ড তাকে শেষ দেখাও দেখতে পারেন নি । তিনি একদম ভেঙ্গে পড়েন । এরপরে আগস্টের ৬ ও ৯ তারিখে জাপানে দু দফা পারমাণবিক বোমার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে তিনি মর্মাহত হয়ে যান !
তার স্ত্রী মারা যাওয়ার ১৬ মাস পরে বেনামি ঠিকানায় রিচার্ড চিঠি লেখেন ,
অক্টোবর ১৭,১৯৪৬